CONSTITUTION

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ) ইউনিটি-৩০ গঠনতন্ত্র (১ম সংস্করণ, ১০ জানুয়ারী ২০২৫)

নিচের উত্তরগুলো মূল গঠনতন্ত্র থেকে সংকলিত। কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে মূল গঠনতন্ত্রই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

১. ইউনিটি-৩০ আসলে কী ধরনের সমিতি?

ইউনিটি-৩০ ৩০ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও বিনিয়োগনির্ভর সমিতি। সম্মিলিত সঞ্চয়, যৌথ বিনিয়োগ, স্বেচ্ছাশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঢাকায় প্রত্যেক সদস্যের জন্য স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করাই সমিতির মূল লক্ষ্য ও অভীষ্ট। (অনুচ্ছেদ ১.০)

২. সদস্য হিসাব কতটি এবং হিসাব নম্বর কীভাবে নির্ধারিত হয়?

সমিতির প্রাথমিক সদস্য হিসাবের সংখ্যা ৩০টি। প্রতিটি হিসাবের বিপরীতে ৩০০১ থেকে ৩০৩০ ক্রমিকে একটি স্থায়ী পরিচিতি নম্বর বরাদ্দ রয়েছে, যা কখনও পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। সকল হিসাব-নিকাশ নামের ভিত্তিতে নয়, বরং এই পরিচিতি নম্বর অনুসারে সংরক্ষিত হয়। ভবিষ্যতে হিসাব সংখ্যা বাড়াতে হলে পরিচালনা পর্ষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও ন্যূনতম ৮০% সদস্যের লিখিত সম্মতি আবশ্যক। (অনুচ্ছেদ ২.১)

৩. প্রতি হিসাবে চাঁদার পরিমাণ কত এবং বার্ষিক দায় কত দাঁড়ায়?

প্রতিটি সদস্য হিসাবের বিপরীতে মাসিক ১০,০০০ টাকা এবং বছরে দুইবার ষাণ্মাসিক ৫০,০০০ টাকা হারে কিস্তি/চাঁদা প্রদেয়। এতে প্রতি হিসাবে বার্ষিক দায় দাঁড়ায় ২,২০,০০০ টাকা এবং ৩০টি হিসাব হতে সমিতির বার্ষিক তহবিল দাঁড়ায় ৬৬,০০,০০০ টাকা। সমুদয় অর্থ সমিতির নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে জমা থাকে এবং কেবল ভূমি ক্রয়, ভবন নির্মাণ, সমিতি পরিচালনা ও অনুমোদিত বিনিয়োগ কাজে ব্যবহৃত হয়। (অনুচ্ছেদ ১.৩)

৪. চাঁদা পরিশোধের শেষ তারিখ কবে?

প্রতি মাসের ১ হতে ১০ তারিখের মধ্যে মাসিক চাঁদা পরিশোধ বাধ্যতামূলক। ষাণ্মাসিক ফি বকেয়া শুরুর ১ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। সদস্যগণ ইচ্ছা করলে এক বছরের সমুদয় চাঁদা ও ষাণ্মাসিক ফি এককালীন পরিশোধ করতে পারেন। অতিরিক্ত বা অগ্রিম প্রদত্ত চাঁদা পরবর্তী মাসের দায়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। (অনুচ্ছেদ ২.২)

৫. নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দিলে জরিমানা কত?

নির্ধারিত সময়ের পর মাসিক চাঁদা পরিশোধ করলে প্রতি মাসের জন্য ১,০০০ টাকা বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত মাসে ষাণ্মাসিক কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ৫,০০০ টাকা জরিমানাসহ তা পরিশোধ করতে হবে; অন্যথায় পুনরায় বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হবে। (অনুচ্ছেদ ৪.২)

৬. একটানা ৩ মাস বকেয়া থাকলে কী হয়? জমা টাকা কি ফেরত পাওয়া যায়?

একটানা ৩ মাস মাসিক চাঁদা বা ষাণ্মাসিক ফি বকেয়া থাকলে পরিচালনা পর্ষদ ১৫ দিনের কারণ দর্শানোর লিখিত নোটিশ প্রদান করে সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে জমাকৃত টাকা থেকে মেইনটেন্যান্স খরচ বাবদ ৬% কর্তন করে বাকি টাকা উক্ত শেয়ার অন্যত্র বিক্রয়পূর্বক ফেরত প্রদান করা হবে। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে সভাপতি সমীপে লিখিত আবেদন ও সমুদয় আর্থিক দায় নিষ্পত্তি আবশ্যক; আর গুরুতর অনৈতিক কার্যকলাপ, দুর্নীতি, সংঘাত বা প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সদস্যপদ বাতিল করা হয়। (অনুচ্ছেদ ২.৪ ও ৪.২)

৭. সদস্যপদ কি অন্য কারও নামে হস্তান্তর করা যায়?

হ্যাঁ। একজন সদস্য তাঁর সদস্যপদ পরিবারের সদস্য, উত্তরাধিকারী বা নিকটজনের নিকট লিখিতভাবে হস্তান্তর করতে পারেন। এ জন্য সভাপতি বরাবর আবেদন দাখিল করতে হয়। আবেদন প্রাপ্তির ১ মাসের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদ গ্রহীতার পরিচয়, আর্থিক সামর্থ্য ও উদ্দেশ্য যাচাই করে আবেদন মঞ্জুর বা নাকচ করবেন। অনুমোদিত হলে গ্রহীতা পূর্ববর্তী সদস্যের সমুদয় দায়, অধিকার ও আর্থিক অবস্থান গ্রহণ করবেন এবং ডিরেক্টরিতে পরিবর্তন লিপিবদ্ধ হবে। আবেদন না-মঞ্জুর হলে বিদ্যমান সদস্য অন্য কাউকে মনোনীত করে পুনরায় আবেদন করতে পারেন। (অনুচ্ছেদ ২.৩)

৮. চাঁদা কোন কোন মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে? বিকাশ/নগদের চার্জ কে দেবে?

সদস্যগণ সমিতির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে সরাসরি জমা দিয়ে প্রমাণক রসিদ সংগ্রহ করবেন। বিকাশ, নগদ বা অন্য অনুমোদিত ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংকে প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চার্জ সংশ্লিষ্ট সদস্যকেই বহন করতে হবে। নগদে পরিশোধের ক্ষেত্রে অর্থ সম্পাদকের নিকট হতে রসিদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। প্রতিটি জমার বিবরণ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ থাকবে এবং অনলাইন হিসাবে প্রতিফলিত হবে। (অনুচ্ছেদ ৪.১)

৯. পরিচালনা পর্ষদ কীভাবে গঠিত হয় এবং নির্বাচন কত বছর পরপর হয়?

সমিতির নির্বাহী কর্তৃত্ব ৩ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের উপর ন্যস্ত — সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক। প্রতি ২ বছর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রত্যেক সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রার্থী হতে হলে সমিতির সকল ফি ও চাঁদা হালনাগাদ থাকতে হবে; ঢাকায় অবস্থানকারী এবং শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিভিত্তিক সক্ষমতা আছে এমন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় এবং গুগল ফর্ম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সরাসরি ব্যালট পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া হয়। (অনুচ্ছেদ ৩.০ ও ৩.২)

১০. সমিতির ব্যাংক হিসাব কে পরিচালনা করেন?

সমিতির নামে এক বা একাধিক নির্ভরযোগ্য তফসিলি ব্যাংকে সেভিংস বা চলতি হিসাব পরিচালিত হয়। সমুদয় লেনদেন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত সদস্যদের নামে পরিচালিত যৌথ হিসাবে সম্পন্ন হয় এবং নামীয় স্বাক্ষরদাতাগণের মধ্য হতে ন্যূনতম দুইজনের যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন — যার একজন আবশ্যিকভাবে অর্থ সম্পাদক। প্রতি মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হয় এবং যেকোনো সদস্যের অনুরোধে হিসাব বিবরণী সাধারণ সভায় প্রকাশ করা হয়। (অনুচ্ছেদ ৫.০)

১১. সমিতির টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা যাবে এবং কোথায় যাবে না?

সমিতির অর্থ কেবল নিরাপদ, আইনসম্মত ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা যাবে — যেমন স্বল্পমেয়াদি ডিপোজিট স্কিম, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) অথবা যাচাইকৃত নির্ভরযোগ্য রিয়েল এস্টেট প্রকল্প। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ, ব্যক্তিনির্ভর ব্যবসা, ব্যক্তিগত লোন কিংবা অনিবন্ধিত ও পর্ষদ-অননুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করা যাবে না। (অনুচ্ছেদ ৬.৩)

১২. জমি কেনার আগে কী যাচাই হয় এবং মূল্য কি নগদে পরিশোধ করা যাবে?

প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে সম্ভাব্য ব্যয়, সময়, মুনাফা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতিবেদন সভায় উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। এরপর অভিজ্ঞ আইনজীবী কর্তৃক জমির কাগজপত্র ভেটিং করাতে হয় — খতিয়ান, মৌজা, দাগ নম্বর, রেকর্ড, নামজারি, ডিসিআর ও খাজনা রসিদ যাচাইপূর্বক প্রতিবেদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পরিচালনা পর্ষদ আগ্রহী সদস্যদের সমন্বয়ে প্রতিনিধি দল গঠন করেন এবং জমি নির্বাচন পর্ষদ ও সদস্যদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে সম্পন্ন হয়। জমির মূল্য পরিশোধ কেবল লিখিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের পর ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পন্ন হবে — নগদে পরিশোধ নিষিদ্ধ; তবে বিক্রেতা মৌজা মূল্যের অতিরিক্ত টাকা ক্যাশে নিতে চাইলে আলাদা চুক্তিপত্র করে নগদ অর্থ প্রদান করতে হবে। (অনুচ্ছেদ ৭.০ ক–ঙ)

১৩. প্রকল্পের এককালীন চাঁদা নির্ধারিত সময়ে না দিলে কী হবে?

প্রকল্প বাস্তবায়নে এককালীন মাথাপিছু চাঁদা নির্ধারিত হলে সকল সদস্য তা যথাসময়ে প্রদানে বাধ্য থাকবেন। কোনো সদস্য ব্যর্থ হলে কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও উপযুক্ত জরিমানা আরোপসহ বিনা নোটিশে সদস্যপদ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট অংশ ব্যাংকে বন্ধক বা অন্যত্র বিক্রয় পূর্বক নির্মাণকাজ চলমান রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প সম্পন্নের আগে উক্ত সদস্য টাকা ফেরত পাবেন না। (অনুচ্ছেদ ৭.০ চ)

১৪. ভবিষ্যতে চাঁদার হার বাড়ানো যাবে কি? গঠনতন্ত্র সংশোধনের নিয়ম কী?

জমির মূল্য বা নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পেলে চাঁদার হার বর্ধিত করা যাবে; এ জন্য ন্যূনতম ৭৫% সদস্যের সম্মতি আবশ্যক এবং সিদ্ধান্তটি সদস্যদের আর্থিক সামর্থ্য ও প্রকল্পের বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। অন্যদিকে গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা সংশোধন, সংযোজন বা বিলোপের জন্য সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের লিখিত সম্মতি আবশ্যক। (অনুচ্ছেদ ৬.২ ও ১০.০ ক)

১৫. অনলাইন পোর্টাল ও ম্যানুয়াল রেজিস্টারে তথ্যের গরমিল হলে কোনটি প্রাধান্য পাবে?

সমিতির কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় — ওয়েবসাইট ও সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ পোর্টালে মাসিক চাঁদার হালনাগাদ, সদস্য তথ্য, জমি ও নির্মাণকাজের অগ্রগতি, ব্যয় বিবরণী, নোটিশ বোর্ড এবং অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে অনলাইন কার্যক্রমের সঙ্গে ম্যানুয়াল রেজিস্টারের কোনো বিতর্ক দেখা দিলে ম্যানুয়াল রেজিস্টার বহি প্রাধান্য পাবে। (অনুচ্ছেদ ৯.০)

Scroll to Top